আজ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘের হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে দেশ। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরের জেলাগুলোতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইছে, যা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
রাজধানী ঢাকাতেও শীতের দাপট বেড়েছে, সকাল থেকেই সূর্য দেখা যায়নি বললেই চলে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা অন্য দিনের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে যে, দেশের নদী অববাহিকাগুলোতে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এর ফলে ফেরি চলাচল ও বিমান ওঠানামায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাস বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। চুয়াডাঙ্গা ও রাজশাহীতে শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তীব্র ঠান্ডার কারণে হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ভিড় বাড়ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কোনো লক্ষণ নেই, তাই আপাতত আর্দ্রতা বাড়ার সুযোগ কম। ফলে শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে। কৃষিবিদরা এই কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় বোরো ধানের চারা ও রবি শস্য রক্ষায় কৃষকদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে শীতের আসল রূপ দেখছে দেশবাসী।
