যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ক্যাশ বা চেকে টাকা পাঠাতে এখন থেকে প্রবাসীদের বাড়তি ১ শতাংশ কর বা ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হওয়ায় আমেরিকান ব্যাংক বা মানি ট্রান্সফার এজেন্সির মাধ্যমে অর্থ পাঠালে মোট অংকের ওপর এই হারে টাকা কেটে রাখা হবে। আগে এই ধরণের লেনদেনে কোনো ট্যাক্স দিতে হতো না, কিন্তু নতুন নীতিমালার কারণে এখন প্রবাসীদের খরচের পাল্লা আরও বাড়লো। যারা চেকে বা নগদ ডলারে সরাসরি অর্থ পাঠান, মূলত তারাই এই নিয়মের আওতায় পড়ছেন। তবে ডিজিটাল ওয়ালেট বা অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে টাকা পাঠালে এই ট্যাক্স কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে।
অনেক প্রবাসী জানিয়েছেন, নতুন এই ট্যাক্সের ফলে তারা এখন নগদ টাকা পাঠানোর বদলে বিকল্প পথ খুঁজছেন। বিশেষ করে যারা প্রতি মাসে বড় অংকের টাকা পাঠান, তাদের জন্য এই ১ শতাংশ ট্যাক্স বড় একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির ট্যাক্স বিভাগ বলছে, অর্থ পাচার রোধ এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো এরই মধ্যে গ্রাহকদের এই নতুন চার্জ সম্পর্কে ইমেইল এবং মেসেজের মাধ্যমে জানাতে শুরু করেছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পর এই বাড়তি ট্যাক্স তাদের সঞ্চয়ে টান ফেলবে। এই নিয়ম শুধুমাত্র ব্যক্তিগত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাকি বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও, তা স্পষ্ট করতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে ভিড় করছেন অনেকে। মানি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো আশঙ্কা করছে, বাড়তি খরচের কারণে মানুষ হুন্ডির মতো অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর দিকে ঝুঁকতে পারে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং অনেকে এই ফি বাতিলের দাবিও তুলছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই করের প্রভাব রেমিট্যান্সের চিত্রে পরিষ্কার হয়ে উঠবে।
