ইরানের চলমান অস্থিরতার মধ্যেই দেশটিতে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট সেবা দ্রুত চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ ১২ জানুয়ারি এক সরকারি বিবৃতিতে তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে সাময়িকভাবে ডিজিটাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও এখন পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে। বিক্ষোভ দমনে গত কয়েকদিন ধরে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে মোবাইল ডাটা ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা প্রায় পুরোপুরি অচল করে রাখা হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, বহিরাগত শক্তির ইন্ধনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সংযোগ ফিরতে শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ঠিক কোন সময় থেকে দেশজুড়ে পুরোপুরি নেটওয়ার্ক সচল হবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
এদিকে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট না থাকায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। ব্যাংক লেনদেন থেকে শুরু করে ই-কমার্স—সবই এখন বন্ধের মুখে। দেশটির তরুণ প্রজন্ম ও ফ্রিল্যান্সাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাইবার হামলার হুমকি মোকাবিলা এবং গুজব ছড়ানো ঠেকাতে নেটওয়ার্ক ফিল্টার করা হচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রদেশের সংযোগ স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
