ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরেই ভারত নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সৌর জোট (আইএসএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে এই জোট গঠিত হলেও ট্রাম্প একে মার্কিন অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের মতে, এই ধরণের আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো আমেরিকার জ্বালানি খাতের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেয়। জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এই সিদ্ধান্তটি মূলত ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতিরই একটি অংশ। তিনি মনে করেন, সৌর শক্তির চেয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি বা কয়লা ও তেলের ওপর গুরুত্ব দিলে মার্কিন শিল্পায়ন আরও দ্রুত হবে।
আইএসএ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থান ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদি সরকার এই জোটকে বিশ্বমঞ্চে ভারতের নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রচার করে আসছিল। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে জোটের বড় অংকের অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। শুধু সৌর জোট নয়, ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও আবারও সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, অন্য দেশের পরিবেশ রক্ষার দায় মার্কিন করদাতারা বহন করবে না।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে পরিবেশবাদীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বড় দূষণকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ালে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তারা অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানির দাম কমাতে চায় এবং এর জন্য সস্তা বিকল্প হিসেবে তেল ও গ্যাসকেই বেছে নেবে। ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নথিপত্র তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সৌর জোটের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো।
