ইরানে মসজিদে আগুন! বিক্ষোভে কি নতুন কোনো ষড়যন্ত্র দানা বাঁধছে?


 ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে এবার ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদল বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে দেশটির বেশ কয়েকটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তেহরানসহ কয়েকটি বড় শহরে গত রাতে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। সরকারি টেলিভিশন দাবি করেছে, দুর্বৃত্তরা পবিত্র স্থানে হামলা চালিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা নিয়ে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল জাহেদান ও মাশহাদ শহরে আজ নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। মসজিদের সামনে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। সরকার এই ঘটনাকে "সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড" হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু জায়গায় আগুনের কুণ্ডলী থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, তবে বিক্ষোভকারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতেই এই ধরণের হামলার নাটক সাজানো হচ্ছে। গত কয়েকদিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। রাজধানী তেহরানের রাস্তায় রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছিল হাজারো মানুষ। অন্যদিকে, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কয়েকটি জায়গায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানে ইন্টারনেটের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করায় তথ্য পেতে বেগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

Previous Post Next Post