ফেনীর মুহুরী ও কহুয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে স্থায়ী বেড়িবাঁধের দাবিতে আজ ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন কয়েকশ গ্রামবাসী। ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীর বাঁধ ভেঙে তাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়, কিন্তু পান্না উন্নয়ন বোর্ড কেবল অস্থায়ী মেরামত করেই দায় সারে। গত কয়েক বছরের ভাঙনে শত শত একর আবাদি জমি এখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
মানববন্ধনে আসা সাধারণ মানুষ জানান, বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও সরকার থেকে টেকসই কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এবার ভাঙন এতটাই ভয়াবহ হয়েছে যে, অনেক পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দ্রুত স্থায়ী সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বরাবর একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ভাঙন কবলিত এলাকার কৃষকরা বলছেন, নদী শুধু তাদের বাড়ি নয়, তাদের আয়ের উৎস কৃষি জমিটুকুও কেড়ে নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফেনীর এই দুটি উপজেলার মানচিত্র থেকে বেশ কিছু গ্রাম হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরতে নারাজ এই নিঃস্ব মানুষগুলো।
