আমদানি পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ভোক্তা পর্যায়ে রান্নার গ্যাসের এই বাড়তি দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। আমদানিকারকরা পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস দেশে নিয়ে এলেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। ডিলাররা গুদামে গ্যাস মজুত করে রেখে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা পাইকারি বাজার থেকেই বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনছেন, তাই কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই।
সাধারণ ক্রেতারা ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি গুনতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক এলাকায় সিলিন্ডারের গায়ে লেখা দাম মুছে দিয়ে নতুন স্টিকার লাগিয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা ঢিলেঢালা হওয়ার সুযোগে ব্যবসায়ীরা এই নৈরাজ্য চালাচ্ছেন। প্রশাসন মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারছে না। অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের নির্ধারিত দাম কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা অজুহাত দিচ্ছেন যে পরিবহন খরচ বেড়েছে, কিন্তু আমদানির তথ্যে এমন দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজারে গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই এবং আমদানির জাহাজগুলো নিয়মিত বন্দরে ভিড়ছে। এরপরও ব্যবসায়ীদের এই কৃত্রিম কারসাজি বন্ধ না হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত তদারকি না বাড়ালে সামনে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক খরচের বড় একটি অংশ দখল করে নিয়েছে এই বাড়তি গ্যাসের দাম। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
