রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি ও আগ্রাসনের আশঙ্কায় গ্রিনল্যান্ডে বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইউরোপের দেশগুলো। ন্যাটোর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর এই পদক্ষেপে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার যেকোনো ধরনের উস্কানি তারা কঠোরভাবে দমন করবে। সাধারণত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নানা জল্পনা থাকলেও, এবারের মহড়াটির নেপথ্যে ট্রাম্পের প্রভাব নয় বরং সরাসরি ক্রেমলিনের হুমকি কাজ করছে। উত্তর মেরুর বরফঢাকা অঞ্চলে রুশ বাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে ইউরোপ এখন নিজের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি মনে করছে।
এই মহড়ায় অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, রণতরী এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পদাতিক বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকানো যায়, সেই রণকৌশলই এখন ঝালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া আর্কটিক অঞ্চলে তাদের পুরোনো সামরিক ঘাঁটিগুলো নতুন করে সচল করায় ইউরোপীয় দেশগুলো শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং ন্যাটোর অন্যান্য সহযোগীরা মনে করছে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া এখন উত্তর দিকে নজর দিচ্ছে। এই বরফঢাকা বিশাল এলাকাটি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় এবং সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে রাশিয়া মরিয়া হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা কার অধীনে শাসিত হচ্ছে তা এখন মুখ্য বিষয় নয়; বরং ইউরোপ নিজের সীমান্ত সুরক্ষায় আত্মনির্ভরশীল হতে চাইছে। গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থানকে ব্যবহার করে রাশিয়া যেন কোনোভাবেই আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে এগোতে না পারে, সেটিই এই মহড়ার প্রধান উদ্দেশ্য। বরফের ওপর দিয়ে দ্রুত যাতায়াত এবং চরম শীতের মধ্যে যুদ্ধের সক্ষমতা যাচাই করতে কয়েক হাজার সেনা এই মহড়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়াতে গ্রিনল্যান্ড উপকূলে উন্নত রাডার সিস্টেমও স্থাপন করা হয়েছে।
