রাজধানীর পূর্বাচলে রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে। আজ মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত এই তারিখ চূড়ান্ত করেন। রাজউকের ৫ কাঠার প্লট নিয়মবহির্ভূতভাবে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়েছিল। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
বিগত সরকারের আমলে এই প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই মামলায় শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়াও রাজউকের তৎকালীন বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই ঘটনার পেছনে আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে। আদালতের আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে আইনসম্মত বলে দাবি করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পূর্বাচল প্রকল্পের সংরক্ষিত কোটা থেকে এই প্লটগুলো দেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রকৃত প্রাপকদের বঞ্চিত করা হয়। এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন সব আসামিকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মামলাটি রাজউকের আবাসন খাতে বড় ধরণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
