কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় চাষীরা। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লবণের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, কিন্তু খোলা বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। মাঠ পর্যায়ে প্রতি মণ লবণ যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তা দিয়ে শ্রমিকের মজুরি এবং জমির ইজারা খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। চাষীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারসাজি এবং আমদানিকৃত লবণের সহজলভ্যতার কারণে দেশি লবণের চাহিদা কমছে।
বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লবণের মাঠগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ সাদা সোনা উৎপাদিত হয়েছে। তবে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীরা পুরো মুনাফা লুটে নিচ্ছে। অনেক চাষী লোকসানের ভয়ে মাঠ থেকে লবণ তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন, যা এই শিল্পের জন্য অশনিসংকেত। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লবণ আমদানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ না আনলে এবং চাষীদের সরাসরি ভতুর্কি না দিলে হাজার হাজার মানুষ এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।
কক্সবাজারের টেকনাফ, চকরিয়া এবং মহেশখালীর লবণের গর্তগুলোতে এখন স্তূপ হয়ে পড়ে আছে অবিক্রীত পণ্য। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে লবণের দাম কমিয়ে রাখছেন বলে দাবি ক্ষুদ্র চাষীদের। এর প্রভাবে প্রান্তিক চাষীদের পরিবারগুলোতে এখন চলছে হাহাকার। জেলা প্রশাসন থেকে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন মিলছে না। বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছে।
