রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে পাহাড়ের ঢালু জমিতে স্থাপন করা এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘ সময় বিদ্যুতের ঘাটতি থাকলেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ বাইরে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক সব সোলার প্যানেল, যা কম আলোতেও কার্যকর থাকে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, কাপ্তাই প্রকল্প সেটিই বাস্তবে প্রমাণ করে দিয়েছে।
পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ভূমি বা প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না হয়। এটি মূলত পিডিবি বা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। পাহাড়ের উপর বসানো সারি সারি সোলার প্যানেল দেখতে প্রতিদিন পর্যটকরাও ভিড় করছেন। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে কাপ্তাইয়ের মতো আরও প্রকল্প দেশের অন্যান্য পাহাড়ি জেলাগুলোতেও নেওয়া প্রয়োজন। কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের মতো এখানে কোনো কার্বন নিঃসরণ হয় না, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমায়।
বর্তমানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে সাড়ে সাত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কাপ্তাই বাঁধের পাশে পরিত্যক্ত জমিতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করায় জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আগে লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষি ও ব্যবসায় ক্ষতি হতো, কিন্তু সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পর সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাপ্তাইয়ের এই মডেলটি সফল হওয়ায় ভবিষ্যতে ভাসমান সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ পাওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরণের নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প নেই।
