লিবিয়ার মরুভূমি থেকে ২১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিজদাহ অঞ্চলের একটি গণকবর থেকে এই দেহাবশেষগুলো বের করে আনে লিবিয়ার অপরাধ দমন বিভাগ। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে লিবিয়া পাড়ি দেওয়ার সময় মানবপাচারকারীদের হাতে বা মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে এদের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে যাতে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
লিবিয়া বর্তমানে উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষ এই বিপদসঙ্কুল পথ বেছে নিচ্ছে। পাচারকারীরা প্রায়ই এসব অভিবাসীদের মরুভূমির মধ্যে ছোট ছোট অস্থায়ী ক্যাম্পে আটকে রাখে এবং মুক্তিপণ আদায়ের জন্য নির্যাতন চালায়। এই ২১ জনের মৃত্যুর পেছনেও পাচারকারী চক্রের হাত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে গত বছরও এই মিজদাহ এলাকাতেই ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছিল।
মরুভূমি অঞ্চলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এমন মৃত্যু নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক সময় খাবারের অভাব, তীব্র পানি শূন্যতা অথবা অসুস্থতায় মাঝপথে মারা গেলে পাচারকারীরা মরদেহগুলো এভাবেই বালুচরে পুঁতে রাখে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) বারবার সতর্ক করে আসছে যে, সাহারা মরুভূমি এবং ভূমধ্যসাগর এখন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। লিবিয়ার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন এই গণকবরের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে এবং এলাকায় আরও কোনো গোপন কবর আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
