পুতিনকে কি সত্যিই জেল খাটাবেন ট্রাম্প? ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য


 

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের কৌশল নিয়ে এবার সরাসরি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে বড় মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ থামাতে প্রয়োজনে পুতিনকে আটক করার পথে হাঁটবেন কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ কৌশলী অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হলো রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের দ্রুত অবসান ঘটানো, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ বা আটক করা তাঁর অগ্রাধিকার নয়। ট্রাম্পের দাবি, তিনি হোয়াইট হাউসে বসার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান করে ফেলবেন। এই প্রক্রিয়ায় পুতিনের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত দিলেও সরাসরি আটকের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ইউক্রেনকে সহায়তা বন্ধের হুমকি এবং রাশিয়ার ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ভয় দেখিয়ে দুই পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে বসাতে চান তিনি। পুতিনকে আটকের মতো কোনো পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা দল। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকান করদাতাদের অর্থ এই যুদ্ধে আর খরচ করতে দেবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, জেলেনস্কি ও পুতিন—উভয়কেই ছাড় দিতে বাধ্য করে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্ভব। ট্রাম্পের এমন কঠোর অথচ সমঝোতাকামী অবস্থান বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে শঙ্কিত হলেও ট্রাম্প নিজে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব পুতিনকে যুদ্ধের পথ থেকে সরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো সংকেত মেলেনি। বরং ক্রেমলিন জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাধান এত সহজে সম্ভব নয়। তবুও ট্রাম্প তাঁর অবস্থানে অনড় এবং শপথ নেওয়ার আগেই শান্তি আলোচনার রূপরেখা তৈরি করছেন বলে জানা গেছে।

Previous Post Next Post